নিজস্ব প্রতিবেদক | Janata24 | চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যেই পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. আলহাজ আফজাল হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু তাঁকে মানসিক রোগী হিসেবে উপস্থাপন, সম্পত্তি নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি প্রচার এবং তাঁর পাশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান ও হয়রানি করছেন।
দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়া আফজাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও তিনি মানসিকভাবে সুস্থ। তাঁর দাবি, চিকিৎসা ও সম্পত্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তার অনেকগুলোই বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অসুস্থ বাবার পাশে পরিবারের সদস্যরা:
আফজাল হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে তাঁর পিত্তনালির ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর দুই মেয়ে ও জামাতারা তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজশাহীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়।
আফজাল হোসেনের দাবি, চিকিৎসার ব্যয় বহনে তাঁর ছোট জামাতা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার হাসপাতাল বিল পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে কেমোথেরাপি ও চিকিৎসার অন্যান্য ধাপেও পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা করে আসছেন বলে তিনি জানান।
তাঁর বক্তব্য, সংকটময় সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য ও অভিযোগ তাঁকে ব্যথিত করেছে।
জমি নিয়ে বিরোধ, ছেলের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন:
সম্পত্তির বণ্টনকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। আসাদুজ্জামান টুনুর নামে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, একটি চক্র তাঁর বাবার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জমি নিজেদের হস্তগত করেছে এবং বাকি জমিও দখলের ষড়যন্ত্র করছে।
অন্যদিকে, আফজাল হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজের সম্পত্তি আইন অনুযায়ী বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর পক্ষের দাবি, দুই মেয়ের অংশ তাঁদের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে এবং ছেলের অংশও রাখা হয়েছে, যা তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে পাবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
আফজাল হোসেনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর পাশে থাকা স্বজনদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও বণ্টনের অবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ফেসবুকে অপমান ও স্বজনদের হয়রানির অভিযোগ:
আফজাল হোসেনের অভিযোগ, তাঁর ভাই, ভাতিজা, ভাগনে এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে অপমানজনক পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ছবি ব্যবহার করে পোস্ট করা এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, আফজাল হোসেনের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁরা এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চান।
নিজের অবস্থানে অনড় আফজাল হোসেন:
সংবাদ সম্মেলনে আফজাল হোসেন তাঁর চিকিৎসা, সম্পত্তি এবং পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পরিবারের যেসব সদস্য তাঁর পাশে রয়েছেন, তাঁদের সহযোগিতায় তিনি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর চিকিৎসার ব্যয়, সম্পত্তি এবং তাঁকে জিম্মি করে রাখার বিষয়ে ছেলের পক্ষ থেকে করা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে প্রকৃত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথির ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান ও আইনের কাছে তার ছেলের শাস্তি চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
