এদিকে আন্দোলনের নেতাদের মুক্তি দেয়া হলেও বিক্ষোভ দমনে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে মোদি সরকার। ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেয়ার ঘটনায় সংখ্যালঘুদের ওপর প্রভাব পড়ার অভিযোগও উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, শনিবার আটক হওয়ার পর রোববার শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান অভিজিৎ দীপকে। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জা’। তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ এর আগে এত বড় কাপুরুষ ও ভীতিপ্রদর্শনকারী কাউকে দেখেনি।’
ভোটার তালিকায় বিতর্কিত সংশোধনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে শনিবার আটক করা হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা দীপকেকে। রোববার আন্দোলনটির নেতাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ ঠেকাতে তাদের আটক করার এক দিন পর এ মুক্তি দেয়া হয়।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, শনিবারের নির্ধারিত বিক্ষোভের আগে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও সমর্থকদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
ভারতজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে বিরোধীদের আন্দোলন চলছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবারের সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল একই ব্যক্তির একাধিক নাম, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং জাল বা প্রতারণামূলক নিবন্ধন বাদ দেয়া। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এর আগে শনিবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আন্দোলনটির আরও দুই নেতাকে মুম্বাই থেকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর আটক করা হয়। মূলত তারা উড়োজাহাজ থেকে নামার আগেই তাদের আটক করা হয়েছিল।
এদিকে রোববার সিজেপির প্রধান আইনজীবী রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে দীপকে ও অন্যদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এক বছরের জন্য ‘শান্তি বিঘ্নিত না করার’ শর্তে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, সাদা শার্ট পরা দীপকে আদালত থেকে বের হওয়ার পরপরই একটি কালো গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। দীপকে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জা।’
এদিকে নিজ বাড়ি থেকে আটক হওয়া আন্দোলনকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি ধ্রুব রাঠিও মুক্তি পেয়েছেন।
এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও সিজেপি দমন-পীড়নের মধ্যেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
